দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শিশু-কিশোরসহ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে কার্যকর আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৬-এর আলোকে দ্রুত বিধিমালা প্রণয়ন জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও বগুড়া সদর আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা।
শুক্রবার সকালে বগুড়া শহরের একটি হোটেলের মিলনায়তনে সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৬-এর আলোকে দ্রুত বিধিমালা প্রণয়নের গুরুত্ব শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তামাকজনিত রোগে মৃত্যু ও অসুস্থতা কমানো, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনের লক্ষ্যে দ্রুত বিধিমালা প্রণয়নের দাবিতে বৈঠকটির আয়োজন করে উবিনীগ, ভেঞ্চার ফাউন্ডেশন ও তামাকবিরোধী নারী জোট (তাবিনাজ)।
বক্তব্যে সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা বলেন, সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সুফল পেতে দ্রুত বিধিমালা প্রণয়ন প্রয়োজন। বিষয়টি তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনবেন এবং আইন বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নেবেন।
তিনি বলেন, ৩১ মে ২০২৬ বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শিশু-কিশোরসহ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কার্যকর আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।
এমপি বাদশা আরও বলেন, চূড়ান্ত আইনে উদীয়মান তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্য পুরোপুরি অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় এসব পণ্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়ে গেছে। তরুণদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এগুলো নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও আইনি উদ্যোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ হোসেন, বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানু, বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম এবং বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী।
মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান, ভেঞ্চার ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ফজিলাতুন্নেসা ফৌজিয়াসহ সরকারি-বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, আইনজীবী, শিক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
বক্তারা বলেন, সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন, প্রচার ও বিক্রয়স্থলে প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার পরিমাণ ৭৫ শতাংশে উন্নীত করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালসহ নির্দিষ্ট স্থাপনার ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ করা এবং তামাক নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান বিধিনিষেধ আরও জোরদার করার বিধান রাখা হয়েছে।
বৈঠকে উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়, দেশে ১৫ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সীদের প্রায় ৩৫ শতাংশ তামাক ব্যবহার করেন। তামাক ব্যবহারের কারণে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। ক্যানসার, হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান কারণ তামাক। পরোক্ষ ধূমপানের কারণে নারী, শিশু ও অধূমপায়ীরাও গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন।
বক্তারা আরও বলেন, তামাকজনিত মৃত্যু ও অসুস্থতার কারণে পরিবারে আর্থিক চাপ বাড়ে। একই সঙ্গে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত বোঝা তৈরি হয়। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও পরিবেশের ক্ষতি কমানো সম্ভব।
এ জন্য দ্রুত বিধিমালা প্রণয়ন এবং জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।
এমএস/